মাত্র ৩ বছর বয়সেই দুটি বিশ্ব ইন্টারন্যাশনাল বুক অফ রেকর্ডসে নাম বাঙালি মেয়ে অভিলাশার, শুভেচ্ছা নেটিজেনদের

সোশ্যাল মিডিয়ার জারিজুড়ির কাছে এখন কেউ টিকতেই পারছে না। এখানে কখন কার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যাবে, তা ধরতেই পারবেন না।

আজকাল ইন্টারনেটের মাধ্যমে একেকটা ট্রেন্ডিং গান আমাদের মাতিয়ে রাখছে। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, ইন্টারনেট আমাদের কী ভাবে,

দিনে দিনে সবার কাছে আপন হয়ে যাচ্ছে। মানুষ যখন থেকে সোশ্যাল মিডিয়া নামক প্ল্যাটফর্মটা বুঝতে শিখেছে তখন থেকেই মানুষের,

অজানা বলে আর কিছুই নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অনেক জিনিস আছে যা সাধারণত আমাদের চারিপাশে দেখা যায় না। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক ছবি ভিডিও ঘুরতে থাকে যদিও সব ছবি ভিডিও ভাইরাল হয় না, সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে না। আর যেগুলি দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেগুলি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। বিশ্ব রেকর্ড তৈরিতে বাঙালি বরাবরই কর্তৃত্ব ফলিয়ে এসেছে। নোবেল জয় থেকে খেলার ময়দান, কোনও মঞ্চেই পিছিয়ে নেই বাংলার গুণীজনেরা। ২০২২ সালে ভারতীয়রা যেমন দাপিয়ে বেরিয়েছেন অলিম্পিক্সের ময়দান, তেমনই অগুন্তি ইংরেজি শব্দ ঠোঁটস্থ করে নিয়ে আন্তর্জাতিক ময়দানে ভারতকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল ৩ বছরের ছোট্ট বাঙালি মেয়ে অভিলাশা। মুখের বুলি এখনও খুব একটা স্পষ্ট হয়নি তার, তবুও মাত্র ৩ বছর ৮ মাস বয়সেই তার হাতে চলে এল দু-দুটো বিশ্বরেকর্ড।

ইন্টারন্যাশনাল বুক অব রেকর্ডসে নাম তুলল বাঁকুড়ার ছোট্ট অভিলাশা আখুলী। তার বয়সকে ছাপিয়ে গিয়েছে অভাবনীয় প্রতিভা, সবে মাত্র স্কুলে ভর্তি হয়েছে ছোট মেয়েটি। বিবেকানন্দ মিশন স্কুলের এই ছাত্রী তিন বছর বয়সেই গড়ে ফেলল বিশ্বরেকর্ড। মাত্র ২৪ সেকেন্ডে ২৬ টি ন্যাটো ফোনেটিক্স বর্ণমালার আলফা থেকে জুলু পর্যন্ত দ্রুততম উত্তর দিয়ে প্রথম বিশ্ব রেকর্ডটি অর্জন করেছে অভিলাশা আখুলী। দ্বিতীয় রেকর্ডটি সে তৈরি করেছে মাত্র ৫ মিনিট ৫১ সেকেন্ডে ইংরেজি ভাষায় ৬২টি প্রাণীর শাবকদের নাম, তাদের দ্বারা তৈরি শব্দ এবং তাদের বাসস্থানের নাম একনাগাড়ে মুখস্থ বলে। আন্তর্জাতিক বুক অফ রেকর্ডসের জন্য একটি নতুন বেঞ্চমার্ক সেট করল অভিলাশা। বিশ্বজয়ী অভিলাশার বাবা বিশ্বরূপ আখুলী পেশায় সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টের কর্মচারী। বর্তমানে তিনি জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া-তে কর্মরত।

কাজের সূত্রে পরিবার নিয়ে তিনি থাকেন কলকাতায়। মা মৌসুমী আখুলী গৃহকর্ত্রী, তিনিই অভিলাশার বিশ্ব রেকর্ড তৈরির অনুপ্রেরণা এবং শিক্ষিকা। ইন্টারন্যাশনাল বুক অব রেকর্ডসে রেকর্ড সৃষ্টিকারী বহু ছোট ছোট শিশুদের কৃতিত্বে অনুপ্রাণিত হয়ে অভিলাশার বাবা-মা তাঁদের মেয়ের বিশেষ গুনটির দিকে আলককপাত করেন। তাঁদের ছোট্ট মেয়ের কৃতিত্বকে তুলে ধরার জন্য তাঁরা ইন্টারন্যাশনাল বুক অব রেকর্ডসে অনলাইনে আবেদন করেন। গত জুলাই মাসে এই খুদে প্রতিভার নাম রেকর্ড হিসেবে রেজিস্টার্ড হয় ইন্টারন্যাশনাল বুক অব রেকর্ডসে।

পরে তাঁদের বাড়ির ঠিকানায় পৌঁছয় অভিলাশা আখুলীর শংসাপত্র ও মেডেল। মেয়ের অত্যাশ্চর্য কৃতিত্বে স্বাভাবিকভাবেই খুশি তার বাবা-মা, পরিবার-সহ এলাকার সমস্ত মানুষজন। শব্দ মুখস্থ করার পাশাপাশি অভিলাশা নৃত্যশিল্পেও সমান পারদর্শী। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কেবল নিজের উন্নতিই নয়, স্কুলের বন্ধুদের অনুপ্রেরণা দিতেও সে পিছপা হয় না। ইন্টারন্যাশনাল বুক অব রেকর্ডসে নাম তোলার জন্য নিজের বন্ধুদেরও উৎসাহ দিয়ে থাকে ৩ বছরের ছোট্ট রেকর্ডজয়ী।